Recents in Beach

কেয়া গাছ

 কেয়া গাছ (ইংরেজি: Keya Tree, বৈজ্ঞানিক নাম: Pandanus fascicularis) একটি সুপরিচিত ও আকর্ষণীয় গাছ, যা বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। এটিকে কেওড়া বা কেয়া নামেও ডাকা হয়।

কেয়া গাছের বৈশিষ্ট্য:

1. বাহ্যিক রূপ:
   · গাছটি দেখতে অনেকটা ঝোপালো ও ছত্রাকার, প্রায় ৫–১০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতা হয়।
   · পাতাগুলো লম্বা, শক্ত, ধারালো ও সবুজ, যা গাছের মাথায় গুচ্ছ আকারে থাকে।
   · গাছের কাণ্ডে শেকড়ের মতো বায়বীয় মূল (aerial roots) দেখা যায়, যা মাটি থেকে বের হয়ে গাছকে সাপোর্ট দেয়।
2. ফুল ও ফল:
   · কেয়া গাছের ফুল সাদা রঙের, সুগন্ধিযুক্ত এবং রাতে বেশি ঘ্রাণ ছড়ায়।
   · ফলটি কাঁটাযুক্ত ও গোলাকার, যা পাকলে হলুদ বা কমলা রঙ ধারণ করে।
3. ব্যবহার:
   · সুগন্ধি: কেয়া ফুলের নির্যাস (attar) সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এটি "কেওড়া অ্যাটার" নামে বিখ্যাত।
   · ঔষধি গুণ: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় কেয়া গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহৃত হয়, যেমন জ্বর, ব্যথা ও ত্বকের সমস্যায়।
   · খাদ্য: কিছু অঞ্চলে ফলের ভেতরের নরম অংশ খাওয়া হয়।
   · সৌন্দর্য: বাগান ও পার্কে শোভা বাড়াতে লাগানো হয়।
4. পরিবেশগত ভূমিকা:
   · এটি ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের গাছ, যা লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে।
   · মাটি সংরক্ষণ ও উপকূলীয় ঢাল সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।

গুরুত্ব:

কেয়া গাছ বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও প্রকৃতির অংশ। বিশেষ করে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থিক উপার্জনের জন্য কেয়া ফুল ও ফল ব্যবসায়িকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রক্ষণাবেক্ষণ:

এটি একটি সহজলভ্য গাছ, যা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠলেও বাগানে চাষ করা সম্ভব। লবণাক্ত বা আর্দ্র মাটি এ গাছের জন্য উপযোগী।

Post a Comment

0 Comments