গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ:
1. বিষাক্ততা:
· শ্বেত মাকাল উদ্ভিদে ট্রেমেটল (Tremetol) নামক একটি শক্তিশালী বিষাক্ত উপাদান থাকে।
· যখন গবাদি পশু (গরু, ছাগল, ভেড়া) এই গাছ খায়, তখন বিষটি তাদের দেহে জমা হয় এবং দুধ বা মাংসের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে।
· মানুষ দূষিত দুধ বা মাংস খেলে "দুধের অসুস্থতা" (Milk Sickness) নামক একটি রোগ হতে পারে, যা বমি, পেটে ব্যয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্লান্তি, এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটাতে পারে।
· মার্কিন ইতিহাসে, ১৯ শতকে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের মা, ন্যান্সি হ্যাঙ্কস লিংকন, সম্ভবত এই রোগে মারা যান।
2. চেনার উপায়:
· পাতাগুলো হৃৎপিণ্ডাকার, কিনারায় দাঁতের মতো এবং বিপরীতমুখীভাবে সাজানো।
· সাদা ফুল হয় ছোট, ঝুমকা আকারে এবং শরৎকালে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) ফোটে।
· উচ্চতা সাধারণত ১-১.৫ মিটার পর্যন্ত হয়।
3. আরও ব্যবহার ও প্রাসঙ্গিকতা:
· ঐতিহ্যগতভাবে কিছু আদিবাসী আমেরিকান গোষ্ঠী সীমিত ও সতর্কতার সাথে এর ঔষধি ব্যবহার করত (যেমন জ্বর কমানো), কিন্তু সাধারণভাবে এটি খুবই বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচ্য।
· বর্তমানে এটি বাগানের সৌন্দর্যবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবেও কিছু অঞ্চলে চাষ করা হয়, তবে পশু ও মানুষের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা প্রয়োজন।
4. বাংলাদেশ/ভারতীয় প্রসঙ্গ:
· শ্বেত মাকাল মূলত আমেরিকার স্থানীয় উদ্ভিদ। বাংলাদেশ, ভারত বা দক্ষিণ এশিয়ায় এটি প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় না।
· তবে "মাকাল" নামটি বাংলায় অন্য একটি বিষাক্ত লতা/গাছ (ইন্ডিয়ান বেরি, বৈজ্ঞানিক নাম: Tinospora cordifolia বা গুলঞ্চ) এর জন্যও ব্যবহৃত হয়, যা ভিন্ন। গুলঞ্চ আয়ুর্বেদিক ওষুধে ব্যবহৃত হয় এবং এটি সাধারণত নিরাপদ।
· তাই "শ্বেত মাকাল" বলতে যদি বাংলাদেশ/ভারতের কোনো স্থানীয় উদ্ভিদ বোঝানো হয়, তা সম্ভবত অন্য কোনো সাদা ফুলের গাছকে নির্দেশ করতে পারে। প্রসঙ্গটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
সতর্কতা:
যদি আপনি বাংলাদেশ বা ভারতে কোনো গাছকে "শ্বেত মাকাল" বলে চেনেন, তাহলে সঠিক শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক উদ্ভিদ স্থানীয় নামে পরিচিত এবং তাদের বিষাক্ততা ভিন্ন হতে পারে। কোনো সন্দেহ থাকলে উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

0 Comments