কুকুরমুতা গাছ;
অনেকদিন যাবত গাছটি দেখতে পাইনি। সাধারণত রাস্তার দু'পাশে জন্মে। ভিন্ন ভিন্ন জনপদে নানা নামে তাকে নামকরণ করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, সবগুলো নামই উদ্ভিদটির জন্য অসম্মানজনকতো বটেই বিব্রতকরও, যেমন: শিয়াল মুতা, কুকুরশোঁকা বা কুত্তামুতা, বন মূলো / কুকুর শোঁকা ইত্যাদি। ইন্ডিয়া তামিলনাড়ুতে এর চমৎকার একটি নাম রয়েছে, তা হলো তাম্রচূড়া। উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম: Blumea lacera/Blumea lacera DC এটি Asteraceae বা সূর্যমুখী পরিবারের একটি উদ্ভিদ। গাছটিকে চাকমা ভাষায় একটু ইজ্জত দেয়া হয়েছে। তারা বলে আমভোজ শাক। চাকমা ভাষায় গাছটি নিয়ে একটি গানও রয়েছে।
"গোচ্যা খলা আমভোজ শাক / মরে ললে বাজ্যেই থাক/ তিল ভাজির বাটা আমভোজ শাক/ আমার সাথে বিয়ে হবে তো অপেক্ষায় থাক"।
চাকমারা এটি শাক হিসেবে খায়। সাধারণ পদ্ধতিতে এশাক খাওয়া যায় না, বিশেষ পদ্ধতি আছে। এগাছের পাতা খাওয়া যায় না, শুধু কচি পাতার শিড়া। অভ্যস্ত না হলে খারাপ লাগবে। হবিগঞ্জ এলাকায় বলা হয় ইয়ালমূর্তি।
এটি রোগ প্রতিরোধক এবং রক্ত পরিষ্কারক ঔষধ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে।
- ক্রিমিনাশক, জ্বরনাশক, বেদনানাশক।
- পুরাতন আমাশয়, বদ হজম, কলেরা রোগের ঔষধ।
- মূত্র কারক, রক্ত অর্শ এবং রক্ত আমাশয় নাশক।
- শোথ ও চুলকানিতে উপকারী।
- মাত্রাঃ এর রস ১২ থেকে ৩৬ গ্রাম পর্যন্ত সেবন করা যায়।
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে জানা যায়, এটি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া একটি জংলি গাছ। এরা কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। পুরো শরীর ও পাতা এক প্রকার নরম লোমশ আবরণে ঢাকা। পাতাগুলো একটু চাপ দিলে এর থেকে নিঃসরিত রসে বেশ কটু গন্ধ আছে। এদের হলুদ ফুল গুচ্ছগুলো কিছুদিন পরে ছাই বর্ণ ধারণ করে এবং ফুল গুলো তুলার মত হয়ে উরে যাবার জন্য প্রস্তুত হয় তখন দেখলে মনে হবে যেনো পাকা চুলের মাথা একটা। এই অবাঞ্ছিত আগাছার নাম সন্ধানে বেশ বিব্রত হতে হয় আঞ্চলিকভাবে একে কুকুর মুতা,কুকুর শুঙ্গ,জংলি মুলী এই ধরনের নামে ডাকা হয়। এমন নামকরনের পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা জানা নেই। তাম্রচূড়া ঔষধি গাছটি জ্বর, মুখে বাথা সহ নানান অসুখে ব্যবহার হয়ে আসছে।
Photo: Lalita Barman

0 Comments