বিষকাটালি। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটার সাথে বিষের সম্পর্ক আছে নিশ্চয়ই। ঠিক ধরেছেন । এটি একটি বিষাক্ত ভেষজ উদ্ভিদ এবং বিষ কাটাতেও ব্যাবহার করা হয়।মাছ ধরতে গিয়ে মাছের কাঁটা বিধলে বিষের
যন্ত
ফুলবাগানের কীটপতঙ্গ থেকে মুক্তি পেতে এই গাছের ব্যাবহার কিভাবে করা যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করা আর জানার চেষ্টা করাই আপনার কাজ। বিষকাটালি বা পানিমরিচ সম্পর্কে চলুন জেনে আসি একটুখানি।
বাংলা নাম: বিষকাটালি,পানিমরিচ
Common name:Oriental pepper, Curlytop knotweed,smartweed,Persicaria
Botanical Name:Persicaria lapathifolia
_______
Full Classification:
Kingdom: Plantae
Subkingdom:Viridiplantae
Infrakingdom: Streptophyta
Superdivision :Embryophyta
Division: Tracheophyta Subdivision :Spermatophytina
Class :Magnoliopsida
Superorder: CaryophyllanaOrder:Caryophyllales
Family: Polygonaceae
Genus: Persicaria
Species: Persicaria lapathifolia (L.) Gray
উদ্ভিদ বর্ণনা:
আমাদের দেশের বেশ কিছু গাছ বিষকাটালি নামে পরিচিত। এ গাছগুলির কোন কোনটি একবর্ষজীবি আবার কোনো কোনোটি বহুবর্ষজীবি। এরা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।সকলেই পার্সিকারিয়া জেনাসের অনর্ভুক্ত।জংলি বিষকাটালি, ঝিল বিষকাটালি,পানিবিষকাটালি, আঠালো বিষকাটালি এরকম অনেক গুলো প্রজাতিই আমাদের দেশে পাওয়া যায়।লাল ফুলের বিষকাটালি গাছ লাল বিষকাটালি নামে পরিচিত। লাল কুকড়ি বা বিহগ্নি নামেও পরিচিত। এটি বহুবর্ষজীবি । এদের কিছু প্রজাতিকে পানিমরিচ বা পাকুরমুল নামেও ডাকা হয়।
গঠন: এদের কোনোটি একবর্ষজীবি গুল্ম আবার কোনোটি বহুবর্ষজীবি গুল্ম কিংবা লতানো গুল্ম।লম্বায় ১.৫ মিটার পর্যন্ত হয়।পর্ব থেকে শিকড় বের হতে পারে।
পাতা: পাতাগুলি সরল,প্রতি পর্বে একটি করে পাতা থাকে।প্রজাতি হিসেবে বিভিন্ন আকার, আকৃতির পাতা হয়ে থাকে।
ফুল:প্রজাতিভেদে ফুল দুই তিন ধরণের দেখা যায়-সাদা, গোলাপি,সাদা গোলাপি, লালচে।
ফল: ছোট আকৃতির ফল শুকনো হয় কিন্তু পাকলে ফেটে যায় না।
আবাসস্থল:এরা আমাদের বাড়ির আশেপাশেই পুকুর, খাল বা নদীর আশেপাশে ভেজামাটিতে জন্মে। এটি অট্রিলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইউরোপ, এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল এবং উত্তর আমেরিকায় ব্যাপক ভাবে পাওয়া যায়।
ব্যাবহার:
অন্যসব উপকারিতা ও ব্যাবহার সম্পর্কে
বলার আগে একটা বাস্তবিক বলি। আপনার ফুল বাগান কিংবা জমিতে এটাকে আক্ষরিক অর্থেই বাস্তবিক ভাবে কীটনাশক হিসেবে ব্যাবহার করতে পারেন। পরিবেশ বাঁচল, বাগান বাঁচল,সাথে আপনিও বাঁচলেন।
এর ঔষধি অনেক গুণের মধ্যে একটা হলো টিউবারকলোসিস নিরাময়ে এর বীজের ব্যবহার। ভীমরুলের কামড় থেকে উৎপন্ন বিষের জ্বালা কমাতে বিষকাটালির রস ব্যবহার হয়। বিষ কাটালির সংস্কৃত নাম বিশল্যকরনী। গ্রামের কিশোরেরা কেঁচোকে মাটির নিচ থেকে বের করে আনার উদ্দেশ্যে যে স্থানে কেঁচো আছে সেই জায়গার উপরে এই গাছটির লতাপাতাকে পা দ্বারা কচলাতে থাকে এবং পায়ে পানি ঢালতে থাকে। গাছের পাতার রসমিশ্রিত পানি মাটিতে প্রবেশ করলে মাটির নিচ থেকে কেঁচোরা বের হয়ে আসে এবং সেই কেঁচো কিশোরেরা বড়শিতে মাছ শিকারে কাজে লাগায়। মজাটা হলও জলাভূমির ধারে এই গাছ জন্মায়, আর সেই জলার মাছ ধরতেই এই গাছের ব্যবহার করা হয়।
জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। পাতা সিফিলিস ও রিউমেটিজম এ ব্যাবহার করা হয়। কৃমিনাশক হিসেবে, ঘা ও আলসারের চিকিৎসায় ব্যাবহৃত হয়।এ গাছ ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যাবহৃত হয়। এটি বেশ বিষাক্ত। এটি খেলে গৃহপালিত পশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। পাতার রস চামড়ার রোগের চিকিৎসায় ব্যাবহৃত হয়। পাতার রস ডিসেন্ট্রি, চর্মরোগ, লিভারের রোগে ব্যাবহার হয়। পুকুরের মাছ মাছ মেরে ফেলার জন্য এবং গৃহপালিত পশুর গায়ের উকুন মারার জন্যে এ গাছ বহুল ব্যাবহৃত।পাতার রস ব্যাথানাশক হিসেবে ব্যাবহার করা হয়.

0 Comments