Recents in Beach

আফ্রিকার জঙ্গলে মানুষ খেকো গাছ

আফ্রিকার জঙ্গলে মানুষ খেকো গাছ মাংশাসী উদ্ভিদ সংগত কারণেই প্রকৃতির সবচেয়ে অদ্ভুত ঘটনার গুলোর মধ্যে একটি। এসব উদ্ভিদ সাধারণত পোকামাকড়, মাকড়সা ইত্যাদি প্রাণীকে ফাঁদে ফেলে। তবে কোন কোন সময় ইঁদুর বা ব্যাঙ জাতীয় ছোট ছোট প্রাণীরা এদের শিকারে পরিণত হয়। আফ্রিকার জঙ্গলে মানুষ খেকো গাছ


সত্যিই কি মানুষ খেকো গাছ আছে?

ছোটবেলায় গল্প শুনতাম আফ্রিকার জঙ্গলে ভয়ঙ্কর মানুষ-খেকো গাছ আছে। বটগাছের মতো সেই গাছগুলোর বড় বড় লেজের মতো কাণ্ড আছে, যেগুলো দ্বারা তারা মানুষকে পেঁচিয়ে আটকে খেয়ে ফেলে! আমার মতো অনেকে নিশ্চয় ছোটবেলায় মানুষ-খেকো গাছের গল্প শুনেছেন। 


আপনাদেরও কি আমার মতো জানতে ইচ্ছে করেছে আসলেই পৃথিবীতে এমন গাছ আছে কিনা? এ প্রশ্নের উত্তরে জানা যাক মানুষ– নয় প্রাণী খেকো গাছের কথা।

আফ্রিকার জঙ্গলে মানুষ খেকো গাছ

আদতে মানুষ-খেকো গাছ বলে কিছু নেই পৃথিবীতে। তবে মাংসাশী গাছ বা কার্নিভোরাস প্লান্ট (Carnivorous plants) বলে একধরণের গাছ আছে যেগুলো বৈরি পরিবেশে জন্মাবার কারণে তার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন মূল দ্বারা শ্বসন করতে পারে না। শরীরে নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করার জন্য গাছগুলো বিভিন্ন ধরণের পোকামাকড় এমনকি ছোট ছোট ইঁদুরকে পর্যন্ত শিকারে পরিণত করে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। মাংসাশী উদ্ভিদগুলো এসব প্রাণীকে বিভিন্ন উপায়ে ফাঁদে ফেলে। প্রাণীগুলো যখন ফাঁদে আটকে মারা যায় তখন এদের দেহ থেকে খনিজ উপাদান সংগ্রহ করে টিকে থাকে গাছগুলো। 


পৃথিবীতে প্রায় ৪৫০ প্রজাতির মাংসাশী উদ্ভিদ রয়েছে। 

যেমনঃ

*ভেনাসফাইট্র্যাপ

ওয়াটারহুইল

সূর্যশিশির

কলসীউদ্ভিদ

তবে সারা বিশ্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কলস উদ্ভিদ। 


কলসী উদ্ভিদ (ইংরেজি: Pitcher plants) হচ্ছে কতিপয় আলাদা প্রকারের মাংসাশী উদ্ভিদ যেগুলোর পরিবর্তিত পাতাগুলো একধরনের বিপদের ফাঁদ হিসেবে কাজ করে । এই বিপদের ফাঁদগুলো শিকার-ধরার ফাঁদ-কৌশলী বৈশিষ্ট্য হিসেবে কলস উদ্ভিদের পাতাগুলোর গভীর গহ্বরটি তরল দ্বারা পূর্ণ থাকে। 

এই কলসি উদ্ভিদকে সবচেয়ে ভয়ংকর মাংসাশী উদ্ভিদ বলে চিহ্নিত করা হয়।


বাংলাদেশের বিভিন্ন খাল বিলে এর অবাধ অবস্থান। বর্ষার শেষদিকে একটু কম পানিতে জন্মায় এরা।


এটি একটি মধ্যম আকারের জলজ বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।

তেমন কোনো শেকড় থাকে না এবং পানিতে ভেসে বেড়ায় এই উদ্ভিদগুলো।

শেকড়ের বদলে এদের এক ধরণের থলে থাকে।

থলের মুখের প্রবেশ পথে খাড়া রোম থাকে।

এই রোমগুলোতে কোন জলজ প্রাণী স্পর্শ করলেই এর মুখ খুলে যায় এবং প্রাণীটিকে থলের ভেতর নিয়ে নেয়।

উদ্ভিদটির গাঢ় কমলা হলুদ রঙের ফুল হয়। হাল্কা সুবাস আছে এতে।

Post a Comment

0 Comments